খানি ও দর্পণের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় সভায় বক্তাগণ ।। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে খাদ্য ও কৃষি অধিকারের সুস্পষ্ট ঘোষণা চাই

স্টাফ রিপোর্টার।।‘সাংবিধানিকভাবে জনগণের খাদ্যের অধিকার অর্জন এবং পুষ্টিমান উন্নয়নে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্থায়িত্বশীল কৃষি ও কৃষিকেন্দ্রিক শিল্পই বাংলাদেশের মত গ্রাম-কৃষিনির্ভর দেশের খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে সবচেয়ে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা সূচক ২০১৫’ অনুসারে বিশ্বের ১১৩টি দেশের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তার দিক দিয়ে বাংলাদেশ ৯৫তম স্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সর্বনিন্মে । বিশ্ব ক্ষুধা সূচক (গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স- জিএইচআই) ২০১৬ অনুযায়ী, ক্ষুধা- দারিদ্র্য ও অপুষ্টি দূরীকরণে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১১৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯০তম। গত আট বছরে বাংলাদেশ স্কোরে উন্নতি করলেও সার্বিক সূচকে ১৭ ধাপ পিছিয়েছে। ২০০৮ সালে সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩২ দশমিক ৪ পয়েন্ট। ২০১৬ সালে তা দাঁড়ায় ২৭ দশমিক ১ পয়েন্টে। সর্বশেষ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত (৯৭তম), পাকিস্তান (১০৭তম) ও আফগানিস্তানের (১১১তম) চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও নেপাল (৭২তম), মিয়ানমার (৭৫তম) ও শ্রীলংকার (৮৪তম) চেয়ে পিছিয়ে আছে। এছাড়াও, জনসংখ্যা অনুপাতে আবাদি জমির পরিমাণ হ্রাস, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, অপর্যাপ্ত কৃষিসেবা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও টেকসই কৃষি চর্চার অভাব, কৃষিতে বাণিজ্যিক আগ্রাসন এবং জলবায়ুর পরিবর্তন বাংলাদেশে খাদ্য সঙ্কট অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।’ গত ২৯ অক্টোবর খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (খানি) ও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা দর্পণ এর যৌথ উদ্যোগে দর্পণের অপরাজিতা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ’কৃষি ও খাদ্য অধিকার: প্রত্যাশিত জনইশতেহার’শীর্ষক আয়োজিত কর্মশালায় বক্তারা এ কথাগুলি বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক আহবায়ক শাহ্ মোহাম্মদ আলমগীর খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য ও মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশেন করেন খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি)-র সদস্য ও দর্পণের নির্বাহী পরিচালক মোঃ মাহবুব মোর্শেদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন খানির কমিউনিকেশন অফিসার মো: কামাল হোসেন।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারন সম্পাদক ইকরাম আহমেদ রানা, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রী কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি নাগমা মোর্শেদ, ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক ওমর ফারুকী তাপস, সমতটের কাগজ এর সম্পাদক জামাল উদ্দিন দামাল, দীপ্ত টিভির প্রতিনিধি মো: শাকিল মোল্লা, নারী উদ্যোক্তা নাসিমা আক্তার, শাহানা বেগম, মায়া নাসিরিন, দর্পণ এর সহকারী প্রকল্প পরিচালক সানজিদা মিমি, প্রোগ্রাম অফিসার নাজনীন আক্তার তপা, সাংবাদিক এন, কে রিপন, সাংবাদিক বাহার রায়হান, ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী ইউসুফ প্রমুখ। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন দর্পণ এর প্রকল্প পরিচালক নূর জান্নাত মুনিয়া। অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতায় ছিলেন দর্পণ অ্যাক্টিভিটস্ গ্রুপের টিম লিডার সুভা ইবনাত সুমী, সদস্য রিশাদ, রিপন, খাদিজা, আশিক ও জসিম।
কর্মশালায় বক্তাগন আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য অধিকার এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের নাগরিক সমাজের ভাবনা কী, আগামিতে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারেসবার জন্য খাদ্য, খাদ্যের জন্য কর্মসংস্থান, গ্রামীণ তরুণদের জীবিকা ইত্যাদি বিষয়ে কর্মসুচীর প্রস্তাবনায় কী কী অর্ন্তভূক্তি বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতি উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে তা চিহ্নিত করা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তুলে ধরা জরুরি। কৃষি ও খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে চিহ্নিত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় কী কী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন, এই কর্মশালায় উপস্থিত পেশাজীবী- বিশেষ করে কৃষক, ক্ষুদ্র উৎপাদক, প্রাকৃতিক-সম্পদ-নির্ভর জনগোষ্ঠি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সকল মানুষের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে এবং নিজ নিজ এলাকার কৃষি সমস্যার সমাধান এবং কৃষকদের উন্নযনে রাজনৈতিক দলগুলো কী করতে পারে, আগামিতে যারা নির্বাচনে আসবেন এবং বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবেন তারা কী ধরণের কর্মসূচি হাতে নিতে পারেন, আমরা আজকের কর্মশালা থেকে তার একটি স্থানীয় জনইশতেহার তুলে ধরতে চাই। আশা করি আমরা সকলে স্থানীয় কৃষি, কৃষকের উন্নয়ন অধিকার, স্থানীয় সম্পদ এবং খাদ্য অধিকার বিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি একটি গ্রহণযোগ্য জনইশতেহার প্রণয়ন করতে সক্ষম হবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*