সকল মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তা নিশ্চিতে খাদ্য অধিকার আইন চাই দাবিতে কুমিল্লায় গণজমায়েত ও মানববন্ধন

ষ্টাফ রিপোর্টার।।‘২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করা। এ ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-এসডিজি’র ১নং লক্ষ্য ‘দারিদ্র্যের অবসান’ এবং ২নং লক্ষ্য ‘ক্ষুধামুক্তি’সহ সকল লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। আমাদের খাদ্য নীতি রয়েছে এবং দারিদ্র্য বিমোচন ও খাদ্য নিরাপত্তা ত্বরান্বিত করার অন্যতম কৌশল হিসেবে ‘জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কৌশল-এনএসএসএস’-এর আলোকে প্রতিবছর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাজেট ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ছে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আরো নানা কর্মসূচি থাকা সত্তে¡ও দেশের মোট জনসংখ্যার ১২.৯ শতাংশ বা ২ কোটি অতিদরিদ্র এবং দরিদ্র ২ কোটিসহ মোট ৪ কোটি মানুষের অর্ধেকই বেশি কম ও অল্প কম খেতে পায়। বাংলাদেশে এখন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খেতে পায় না বলে অপুষ্টিতে ভুগছে। রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন ৪৪ শতাংশ নারী। শিশুদের মধ্যে খর্বকায় (কম উচ্চতাসম্পন্ন) ৩৬.১%, কম ওজনসম্পন্ন ৩২.৬% এবং কৃশকায় ১৪.৩%। বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিক্স-বিবিএস এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রধানত উত্তরবঙ্গসহ দেশের কয়েকটি জেলায় অতিদরিদ্রসহ দারিদ্র্যের হার এখনও আশংকাজনক (৪২%-৭০%-এর উপরে)। এ পরিস্থিতি দেশে সকল মানুষের মৌলিক অধিকার খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, বস্ত্র ও বাসস্থান প্রতিষ্ঠার বিষয়কে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করে তুলেছে। আমাদের সংবিধানে খাদ্যপ্রাপ্তির বিষয়টিকে মৌলিক চাহিদা হিসেবে স্বীকার করলেও খাদ্য নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলো সাধারণত দান বা সেবামূলক। কিন্তু বাংলাদেশে অদ্যাবধি খাদ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়নি। অথচ ভারত, নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশ ও উন্নয়নশীল দেশসমূহের একাংশ আইন/নীতির মাধ্যমে সকল মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে কিংবা এ লক্ষ্যে কাজ করছে। যে কোনো বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলে তার বাস্তবায়নও ত্বরান্বিত হয় এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অধিক কার্যকরী হয়।’ বিশ্ব খাদ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে মধ্য আয়ের দেশে অতি দরিদ্রসহ ৪ কোটি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তা চাই এবং খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের দাবিতে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ কুমিল্লা জেলা কমিটি ও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা দর্পণ এর উদ্যোগে কুমিল্লা প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এক জমায়েত, মানববন্ধন ও শোভাযাত্রায় বক্তারা এ কথাগুলি বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক আহবায়ক শাহ্ মোহাম্মদ আলমগীর খান। সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ কুমিল্লা জেলা কমিটির সভাপতি ও দর্পণের নির্বাহী পরিচালক মোঃ মাহবুব মোর্শেদ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারন সম্পাদক ইকরাম আহমেদ রানা, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রী কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি নাগমা মোর্শেদ, আরএইচডিওর নির্বাহী পরিচালক কাজী মাহতাব, ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক ওমর ফারুকী তাপস, সমতটের কাগজ এর সম্পাদক জামাল উদ্দিন দামাল, নারী উদ্যোক্তা নাসিমা আক্তার, শাহানা বেগম, মায়া নাসিরিন, দর্পণ এর সহকারী প্রকল্প পরিচালক সানজিদা মিমি প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন দর্পণ এর প্রকল্প পরিচালক নূর জান্নাত মুনিয়া। অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতায় ছিলেন দর্পণ এর প্রোগ্রাম অফিসার নাজনীন আক্তার তপা, দর্পণ অ্যাক্টিভিটস্ গ্রুপের সদস্য রিশাদ, রিপন ও জসিম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*