W3vina.COM Free Wordpress Themes Joomla Templates Best Wordpress Themes Premium Wordpress Themes Top Best Wordpress Themes 2012

বরুড়ায় ভন্ড কবিরাজের ফাঁদে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ

Filed under: কুমিল্লা সদর,বরুড়া |

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনসেড ঘর। একটি কক্ষে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে কবিরাজের চেম্বার বানানো হয়েছে। আর বাকি দুই কক্ষে ঠাঁই হচ্ছে না রোগীদের। এ দুই কক্ষে বসে রয়েছেন প্রায় দেড় শতাধিক রোগী। ঘরের ভিতরে যায়গা না পেয়ে বাইর অপেক্ষা করছেন অনেকেই। কুমিল্লাসহ আশ পাশের জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা এসব রোগীদের ৮০ ভাগই মহিলা। কবিরাজের চেম্বারের (কক্ষে) একটি দরজাও রয়েছে। আর দরজার বাইরে রয়েছেন ৩ জন লোক। এরা ওই দুই কক্ষে অবস্থান করা রোগীদের একের পর পাঠাচ্ছেন কবিরাজ হুজুরের কাছে। আর কবিরাজ আনিসুর রহমান কচু পাতা ভেজানো মগে রাখা পানি আর তাবিজ দিয়ে এসব রোগীদের দিচ্ছেন সর্র্বরোগের চিকিৎসা। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা ভবানীপুর ইউনিয়নের জালগাঁও গ্রামে ভন্ড কবিরাজের প্রতারণার ফাঁদ ও অপচিকিৎসার ঘরের ভিতরের দৃশ্য এটি।
তবে বাইরের দৃশ্যও মন্দ নয়। কবিরাজের বাড়ির সামনে থেকে ঘর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন তার নিয়োজিত প্রায় ৩০ জন লোক। তবে কবিরাজের লোক হলেও এরা নিজেদের রোগী বা হুজুরের ভক্ত বলেই পরিচয় দিয়ে থাকেন এখানে আসা রোগীদের (প্রতারিতদের) কাছে। রোগীদের বলতে থাকেন কবিরাজ হুজুরের কাছে এসে বিভিন্ন জটিল রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন তারা। এভাবেই প্রতিদিন প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ভন্ড কবিরাজ আনিসুর রহমান। ওই কবিরাজ নিজেই দাবি করেছেন প্রতিদিন দেড় থেকে দুই ’শ রোগী দেখেন তিনি। যদিও স্থানীয় সূত্রের দাবি এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি। আনিসুর রহমান ওই গ্রামের মৃত.সুলতাল আহমেদের ছেলে।
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তিন কক্ষ বিশিষ্ট ওই টিনসেড ঘরের চেম্বারে বসে আছেন প্রতারক আনিসুর রহমান। তার নিয়োজিতদের সহযোগিতায় একের পর এক রোগী আসছেন চেম্বারে। প্রচন্ড ভিড় থাকায় চেম্বারে রোগীদের বসার কোন স্থান নেই। চেম্বারে গেলে প্রথমে রোগীদের সমস্যার কথা শুনেন তিনি। এরপর কাউকে তাবিজ আর কাউকে কচু পাতার পানি দিচ্ছেন ওষুধ হিসেবে। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা এসব লোকদের কাছ থেকে তাবিজ ও কচু পাতার পানি দিয়েই হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকে আনিসুর রহমানের প্রতারণা। যদিও তার এ প্রতারণার ব্যবসার কোন সরকারি কোন অনুমোধন নেই। নেই ইউনিয়ন পরিষদের সনদও।
কবিরাজি সম্পর্কে জানতে চাইলে আনিসুর রহমান বলেন, আমি সামান্য কিছু পড়ালেখা করেছি। প্রায় ১২০ বছর ধরে আমাদের পরিবার মানুষের এ ধরণের সেবা করে আসছে। আমরা সেবার বিনিময়ে কোন টাকা নেই না। তিনি বলেন, আমি মানুষের সেবা করছি এখানে অনুমোধনের কিছু নেই। প্রশাসন যদি চায় আমি আর সেবা করবো না। এ সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আনিসুর রহমান বলেন, আমার বাবা আগে মানুষের সেবা করতো এখন আমি করি। এখানে প্রতারণার কিছুই নেই। তিনি আরও বলেন, আমিতো কাউকে আসতে বলি না। যদি মানুষ নিজ থেকেই সেবা নিতে আসে তাহলে আমার কি করার আছে। এছাড়া প্রতিদিন দেড় থেকে দুই ’শ রোগী আসেন বলেও জানান তিনি।c-6
তবে নাম প্রকাশ না শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, কবিরাজ আনিসের পুরোটাই ভন্ডামি। সে বিভিন্ন এলাকায় দালালের মাধ্যমে তার সর্বরোগের চিকিৎসার কথা প্রচার চালিয়ে থাকেন। এছাড়া তার নিজস্ব কিছু লোক আছে যারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বলে তার চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এসব কথা শুনে গ্রামের সহজ-সরল মহিলারা ছুঁটে আসেন আনিসের কাছে। এ সময় সুযোগ বুঝে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
গতকাল ওই কবিরাজের বাড়িতে চিকিৎসা নিতে আসা জেলার লাকসাম উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের গৃহীনি আসমা বেগমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে বাতের ব্যাথায় কষ্ট পোহাচ্ছি। এলাকার কয়েকজন বলেছে এখানে এসে কবিরাজ হুজুরের ওষুধ খেলে ভালো হবো। তাই ৭’শ টাকা দিয়ে সিএনজি ভাড়া করে এসেছি। কিন্তু দুই ঘন্টা ধরে বসেও কবিরাজে হুজুরের সিরিয়াল পাচ্ছি না। সবাই যেহেতু বলছে তাই ওষুধ নিয়ে খেয়ে দেখি ভাই হই কিনা।
এ সময় ওই ভন্ড কবিরাজের কাছে আসা অন্তত ৫ জন মহিলাও একই কথা জানান, তাঁরা সবাই শুনেছেন এ কবিরাজের ওষুধ খেলে বিভিন্ন জটিল রোগ থেকে ভালো হওয়া যায়। তাই এসেছেন। তবে কবিরাজ আনিসের কচু পাতার পানি আর তাবিজে ভালো হয়েছেন এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম শিকদার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।
আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুৎফুন নাহার নাজিম এ প্রসঙ্গে জানান, বিষয়টি আমারও জানা ছিলো না। শীগ্রই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

You must be logged in to post a comment Login