W3vina.COM Free Wordpress Themes Joomla Templates Best Wordpress Themes Premium Wordpress Themes Top Best Wordpress Themes 2012

খাদ্য নিরাপত্তা নেটওর্য়াক(খানি) ও দর্পণের যৌথ উদ্যোগে কুমিল্লায় খাদ্য অধিকার আইনের দাবিতে মানববন্ধন ও জমায়েত অনুষ্ঠিত

রুমি আক্তার।। খাদ্য অধিকারকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে কৃষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। গত ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা প্রেসক্লাব চত্ত্বরে খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি), কেন্দ্রিয় কৃষক মৈত্রী, অ্যাকশান এইড ও দর্পণের যৌথ উদ্যোগে  খাদ্য অধিকার আইন চাই শীর্ষক মানববন্ধন ও জমায়েতে বক্তারা এই দাবি করেন। এসময় বক্তরা ঙবলেন, দেশে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই অবিলম্বে জাতীয় সংসদে এই আইন পাশ করে দেশের সকল মানুষের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।  কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক অভিবাদনের সম্পাদক আবুল হাসানাত বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন খানির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও দর্পণের নির্বাহী পরিচালক মোঃ মাহবুব মোর্শেদ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কবি ও সংগঠক ফকরুল হুদা হেলাল, পিড্স এর নির্বাহী পরিচালক ইকরাম আহমেদ রানা, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্ট্রি কুমিল্লার সভাপতি নাগমা মোর্শেদ, ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সাংবাদিক ্ওমর ফারুকী তাপস, সাংবাদিক বাহার রায়হান এবং দীপ্ত টিভি কুমিল্লা প্রতিনিধি শাকিল মোল্লাসহ আরো অনেকে।
সমাবেশে বক্তাগন আরো বলেন, খাদ্য প্রত্যেক মানুষের প্রাথমিক ও প্রধানতম অধিকার। খাদ্য অধিকার পূরণ না হলে মানুষের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়ে। সুতরাং মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার পূর্বশর্তই হচ্ছে তাঁর খাদ্যের অধিকার পূরণ করা। এজন্য দেশে আইনী কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সকল মানুষের খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতি, বাস্তবায়ন কৌশল এবং সমন্বিত কৃষি, খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির দিক নির্দেশনা থাকবে।
এ সময় বক্তারা আরো বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে খাদ্য অধিকার বিষয়ক আইন থাকলেও বাংলাদেশে এখনো তেমন কোন আইন নেই। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দলিলে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অঙ্গিকারাবদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশীয় খাদ্য অধিকার সম্মেলনে খাদ্য নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দেশে খাদ্য নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, খাদ্যের অধিকারকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন, জনগণের কাজের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, কৃষিতে কর্মরত নারীদের কৃষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া এবং কৃষি উপকরণ ও জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, মৌজা মানচিত্র ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও শ্রমজীবী নারী কৃষকের জন্য খাসজমির ন্যায্য বন্টন ও ভূমি সংস্কার নিশ্চিত করার দাবিসহ মোট এগার দফা তুলে ধরেন।
সভায় বক্তারা আরো বলেন, খাদ্য অধিকারকে সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া, এই ‘অধিকার’ সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা দ্বারা সংরক্ষিত করা, এ আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনসমূহ প্রণয়ন ও সংশোধন করা, সুষম ও নিরাপদ খাদ্যের আলোকে খাদ্যের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা, ওষুধভিত্তিক পুষ্টির পরিবর্তে খাদ্যভিত্তিক পুষ্টির ওপর জোর দেয়া, পুষ্টি বিষয়ে পারিবারিক জ্ঞান ও ধারণার বিকাশ করতে হবে, সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, এ জন্য প্রয়োজনীয় নীতিকাঠামোর সংস্কার করা, অগ্রাধিকার ও সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেয়া,  কৃষি নীতিমালায় বর্গাচাষিসহ সকল কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা দেয়া, পাশাপাশি বিদ্যমান কৃষক-সমবায়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি পরিসেবা নিশ্চিত করা, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল কৃষকের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করে নীতিমালা প্রণয়ন করা, কৃষকের অধিকার ও কৃষি সংক্রান্ত যে কোন দুর্ঘটনা, কৃষকদের ভোগান্তির দ্রুত প্রতিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘কৃষি আদালত’ গঠন করা, নারী কৃষকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা,  কৃষি নীতিমালায় নারী কৃষকদের কৃষি উপকরণ ও জামানতবিহীন ঋণ প্রদান সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিধান এবং নারীবান্ধব কৃষি-গবেষণা নিশ্চিত করা, খাসজমি বিতরণসহ ভূমি ও কৃষি বিষয়ক অন্যান্য সম্পদে নারী কৃষকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা,কৃষিজমি, বনভূমি, জলমহাল ও ঐতিহ্য সুরক্ষায় যুগোপযোগী ভূমি ব্যবহার আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা, স্থানীয় বীজ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা ও সংরক্ষণ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় টেকসই ও যুগোপযোগী কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ফসলের ক্ষতির কারণে কৃষকের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, আদিবাসী কৃষক ও লোকজ কৃষি উন্নয়নে কার্যকরী কর্মসূচি প্রণয়ন করা, ফসলের ধরন, উৎপাদন পদ্ধতি ও কৌশল নির্ধারণ করার ক্ষমতা পুরোপুরি কৃষকের হাতেই ন্যস্ত করা এবং ফসলের বৈচিত্র্য বজায় রাখা, চিংড়িচাষসহ বাণিজ্যিক কৃষির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাণিজ্যিক কৃষির মুনাফা থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়া, কৃষককেন্দ্রিক ও দায়বদ্ধ ভ্যালু-চেইন সৃষ্টিতে সরকারের কার্যকরী ভূমিকা রাখা, লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করার জন্য উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা নিশ্চিত করা এবং কৃষিক্ষেত্রে নিয়োজিত শ্রমিকদের শ্রম অধিকার নিশ্চিত করাসহ ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দেয়ার দাবী জানান।

You must be logged in to post a comment Login