W3vina.COM Free Wordpress Themes Joomla Templates Best Wordpress Themes Premium Wordpress Themes Top Best Wordpress Themes 2012

কুমিল্লা সিটি কাউন্সিলরসহ ২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী

স্টাফ রিপোর্টার।।কুমিল্লা মহানগরীর ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুল রহমান ও তার সহযোগী মোঃ ইমন ওরফে ড্রাইভার ইমনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে আদালত। গত ৩ অক্টোবর এ আদেশ প্রদান করেন।  কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মাহবুবের অফিস সংলগ্ন মজুমদার ভিলার সামনে থেকে গত ২৭ মার্চ ২০১৬ইং তারিখে মাইক্রোবাস চুরির ঘটনায় ডিবি পুলিশ ওই কাউন্সিলরের ভাই মিজানুর রহমানসহ ৫ জনকে আটক করেছে। পরবর্তীতে আসামীরা জামিনে এসে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আদালতে হাজিরা না দেয়ায় গত ৩ অক্টোবর ২০১৬ইং তারিখে কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমান ও মোঃ ইমন ওরফে ড্রাইভার ইমনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে আদালত। বর্তমানে পলাতক থেকে কাউন্সিলর মাহবুবসহ আসামীরা মামলার বাদী মোঃ শাহ ইমরান মজুমদারকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়ত হুমকি ধমকি দিয়ে আসছেন। এ ঘটনায় মামলার বাদী শাহ ইমরান সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়,কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ড এর ইয়াসিন মার্কেট (নোয়াগাঁও) সড়কে অবস্থিত কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমানের অফিস সংলগ্ন মজুমদার ভিলা’র সামনে থেকে এমরান মজুমদারের মালিকানাধীন ঢাকা মেট্রো-চ-১১-৯৩০৬ একটি সাদা রংয়ের নোহা মাইক্রোবাস গত ২৭ মার্চ রাত আনুমানিক আড়াইটায় চুরি হয়। পরে এমরান বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ থানায় ১৫/২০জন অজ্ঞাতকে আসামী করে মামলা করেন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আক্তার দায়িত্ব নিয়ে কোন কুলকিনারা না করতে পারায় বাদী এমরান মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের অনুরোধ জানান। এরপর কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মামলার পরবর্তী তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সহিদুল ইসলাম বিভিন্নভাবে গোপন তদন্ত চালিয়ে প্রথমে ইকবাল(২২), ইসমাইল (২৬), গোলাম (২২) ও মাসুদ (২১) নামের ৪জনকে গাড়ি চুরির সাথে জড়িত সন্দেহে আটক করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ডিবি পুলিশ গাড়ি চোর সিন্ডিকেট নেতা কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুবের বড় ভাই মিজানুর রহমানকে আটকে আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মূল রহস্য বের হয়ে এসেছে।
ডিবি পুলিশের এসআই সহিদুল ইসলাম জানান- নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমান এর সাথে ইমরান মজুমদারের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে বিরোধ ও মনোমালিন্য চলে আসছিল। এরই জের ধরে কাজী মাহবুবর রহমান ক্ষতি সাধনের জন্য ইমরানকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে এবং তাকে শিক্ষা দিবে বলেও প্রকাশ্যে প্রচার করে আসছিল। আসামী কাজী মাহবুবুর রহমানের বড় ভাই গ্রেফতারকৃত কাজী মিজানুর রহমান এর মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত আসামী গোলাপ হোসেন ওরফে গোলাপ, মাসুক মিয়া, ইসমাইল ও পলাতক আসামী মোঃ ইমন ড্রাইভারকে ডেকে নিয়ে নোহা গাড়ীটি চুরি করে ইমরানকে শিক্ষা দেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়। আসামীরা কাজী মিজানুর রহমান এর কথায় সম্মতি হয়ে গত ২৮ মার্চ তারিখে গভীর রাতে বর্ণিত আসামীরা একত্রিত হয়ে রাত অনুমান ৩ ঘটিকার সময় বাদীর বাসার সামনে রক্ষিত নোহা গাড়ীটি যার রেজি নং- ঢাকা মেট্টো-চ- ১১-৯৩০৬ চুরি করে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড নিয়ে যায়। এ সময় অপেক্ষারত ঢাকা শহরের অজ্ঞাতনামা ২ আসামী উক্ত গাড়ীতে উঠে ইকবাল হেসেনকে নামিয়ে দেয়। তারা গাড়ী নিয়ে ঢাকা ধোলাইখাল পর্যন্ত গিয়ে ইসমাইল, মোঃ গোলাব হোসেন, মোঃ ইমনকে নামিয়ে দিয়ে ঢাকা শহরের অজ্ঞাত আসামী ২ জন গাড়ীটি ধোলাইখালের ভিতরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেয়। এরপর তারা সকলেই বাড়ীতে চলে আসে বলে উল্লেখিত আসামীরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরবর্তীতে মামলার আসামী ড্রাইভার আপেল মাহমুদ, জনি ঘটনার সাথে জড়িত না থাকায় তাদেরকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অন্যদিকে কাজী মাহবুবুর রহমান ও ইমন ওরফে ড্রাইভার ইমনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের পর থেকে কাউন্সিলর কাজী মাহবুব ও ইমন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারী করে বিজ্ঞ আদালত। ডিবি পুলিশ কাউন্সিলর মাহবুব ও ইমনকে গ্রেফতারে একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েও সফল হতে পারেনি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই সহিদুল ইসলাম বলেন- উল্লেখিত আসামীদেকে ব্যবহার করা হয়েছে। মূল হোতা কাজী মাহবুব ও ইমন মজুমদার পলাতক থাকায় গত ৩ অক্টোবর তারিখে আদালতে তাদেরকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

You must be logged in to post a comment Login