W3vina.COM Free Wordpress Themes Joomla Templates Best Wordpress Themes Premium Wordpress Themes Top Best Wordpress Themes 2012

কুমিল্লার বাঙ্গরায় জনতার হাতে পুলিশ আটকের ঘটনায় রণক্ষেত্র

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে নবগঠিত ‘বাঙ্গরা বাজার থানা’ পুলিশ জাল টাকার অভিযানে গিয়ে জনতার হাতে অবরুদ্ধ হয়েছেন এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এ,এস,আই) সহ ৪ পুলিশ। জনতার হাতে পুলিশ আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পুলিশের ছুঁড়া গুলিতে এক বৃদ্ধাসহ আহত হয়েছেন অন্তত: দশজন। আহতদের মধ্যে মাসুদা আক্তার নামে একজন গুরুর আহত হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্যে তাৎক্ষনিক স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সাদা পোষাকে অভিযানের নামে ব্যবসায়ীকে জাল টাকা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে ওই ৪পুলিশকে অবরুদ্ধ করেছে বলে উত্তেজিত এলাকাবাসী জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার জেলার বাঙ্গরা বাজার থানার হায়দরাবাদ বাদামতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। বিকেল সাড়ে ৬টায় এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত পুলিশ হায়দারাবাদ বাদামতলী বাজার থেকে গণগ্রেফতার পরিচালনা করছে বলে জানা গেলেও কতজন গ্রেফতার হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকায় চরম গ্রেফতার আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বাঙ্গরা থানার ওসিসহ জড়িত সকল পুলিশের প্রত্যাহার দাবী করেছেন।
13
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সোমবার সকালে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার একদল পুলিশ হায়দরাবাদ বাদামতলী বাজারে জামিলা
ভেরাইটিজ স্টোরে গিয়ে বডি-¯েপ্র কিনতে চায়। এসময় দোকানের মালিক সোহেল রানা বডি-¯েপ্র আনতে দোকানের এক পাশে যেতেই পুলিশের সাথে থাকা ২লাখ টাকার জ্বাল নোটের একটি ব্যাগ তার ক্যাশ বাক্সের পাশে রাখে। তখন বাইরে থাকা পুলিশের এএসআই মোসলেম উদ্দিন দোকানের ভেতর প্রবেশ করে দোকান মালিক সোহেলকে জাল টাকা রাখার অভিযোগে আটক করেন। আটক দোকান মালিক সোহেল বাদামতলী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তিনি ওই গ্রামের জিতু মিয়ার ছেলে।
এদিকে সোহেল রানাকে আটকের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী বিক্ষোভে ফেটেপড়ে। বিভিন্ন মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে কিছুক্ষণের
মধ্যেই সহস্ধসঢ়;্রাধিক বিক্ষব্ধ জনতা জ্বাল টাকাসহ চার পুলিশ সদস্যকে আটক করে এবং পুলিশের কাছ থেকে সোহেলকে মুক্ত করে নিয়ে বিক্ষেভ মিছিল বের করে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এসে আটক পুলিশ সদস্যদের জনরোষ থেকে উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে বসিয়ে রেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়।

প্রায় দু’ঘন্টা পর বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে বিক্ষব্ধ জনতার উপর নির্বিচারে লাঠি চার্জ, গুলি চালিয়ে এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে জ্বাল টাকাসহ আটক পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভের সাথে আরো জানান, বাঙ্গরা বাজার থানা প্রতিষ্ঠা হয়েছে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, অথচ বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ এ এলাকার সাধারন মানুষের আতঙ্কে পরিনত হয়েছে।

এ বিষয়ে আন্দিকোট ইউপির চেয়ারম্যান মোঃ ওমর ফারুক বলেন, এলাকার একটি জাল টাকা ব্যবসায়ী চক্র এর আগেও ওই ব্যবসায়ীর দোকোনে জাল টাকা ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে আটক করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। এব্যাপারে ভিকটিম সোহেল বলেন, সম্প্রতি জ্বাল নোটসহ একটি চক্রকে পুলিশের হাতে তুলে দিই। পরে ওই চক্রটি আমাকে হুমকী দিয়ে আসছিলো যে আমাকেও জ্বাল টাকা দিয়ে আটক করা হবে। ওই চক্রটির সাথে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের কতিপয় সদস্যদের যোগ সাজস রয়েছে বলেও সোহেল দাবি করেন। তিনি বলেন, ওই হুমকীর পরই পরিকল্পিত ভাবে পুলিশ আমাকে জ্বাল নোট নিয়ে আটকের চেষ্টা করছিলো। তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিচারসহ ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন’র প্রত্যাহার দাবি করেন।
এদিকে মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও হায়দরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা হারুন আল রশিদ মোবাইল ফোনে জানান, এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে তিনি অবগত আছেন। এরা এলাকার অপরাধীদের সাথে যোগসাজসে ভালো মানুষদের মিথ্যা ও মাদক মামলায় জড়িয়ে টাকা আদায় করে থাকে।এদিকে হায়দরাবাদ এলাকার লোকজন চক্রান্তকারী পুলিশ সদস্যরা কার ইন্দনে ওই ব্যবসায়ীকে জাল টাকা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে তা তদন্ত করে বের করার দাবী জানিয়েছেন। একটি কুচক্রি মহলের প্ররোচনায় পুলিশ এর আগে ১লক্ষ ৩৯হাজার জাল টাকা দিয়ে মোখলেস নামে এক ব্যক্তিকে ফাঁসিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) ইকবাল হোসেন হাজারী বলেন, চট্রগ্রাম থেকে হায়দরাবাদ বাজারে বিপুল পরিমান জাল টাকার
একটি চালান এসেছে এমন খবর পেয়ে বাঙ্গরা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক(এ,এস,আই) মোসলেমসহ পুলিশ সদস্যরা অভিযানে যায়। এ সময়
অভিযান চালিয়ে বাজারের সাধারণ সম্পাদক সোহেল মিয়ার দোকান থেকে ২ লাখ জাল টাকা উদ্ধার করে তাকে আটকের চেষ্টা করলে সে চিৎকার দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন পুলিশকে ঘিরে ফেলে। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ফাঁকা গুলি করে লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ সদস্যদেরকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে নবগঠিত বাঙ্গরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, জাাল টাকার সাথে ৪ পুলিশ আটক হয়নি, মুরাদনগর উপজেলার হায়দারাবাদ বাজারে এক ব্যবসায়ির নিকট জাল টাকা আছে মর্মে গোপন সংবাদ পাই। ওই সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী উপ-পরিদর্শক
(এ.এস.আই) মোসলেহ উদ্দিনসহ ৪জন সিপাই পাঠাই। পুলিশ হায়দারাবাদ বাজারের সোহেল আহমেদ’র ভেরাইটিজ ষ্টোর্স এ অভিযান চালিয়ে একটি পেঁয়াজের বস্তায় লোকানো নতুন কচকচে ১০০০ টাকার নোটের দু’টি বান্ডেল মোট দু’লক্ষ টাকা পাওয়ার পর ওই দোকানীকে আটক করে পুলিশ। দোকানী সোহেল আহমেদ বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক হওয়ায়, তার লোকজন মাইকিং করে জনতাকে ভুল বুঝিয়ে, এ.এস.আইসহ ৪ সিপাইকে আটক করে রাখে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে জনতার হাত থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

এসময় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ২৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয়। তিনি আরো বলেন, পুলিশের কাজ জাল টাকা ব্যবসা নয়, জাল টাকা ব্যবসায়িদের আটক করে আইনের হাতে সোপার্দ করা। এর আগে ওই বাজারের বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক সোহেল আহমেদ’র দোকানের সামনে থেকে মোখলেছুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে ১ লক্ষ ৩৯ হাজার জাল টাকাসহ আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করেছি। ঘটনার আরো তদন্তের স্বার্থে চলমান মামলার অন্যতম আসামী মোখলেসকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি আদালতে।

You must be logged in to post a comment Login